শর্তসাপেক্ষে পোশাক খাতের মূল্যায়ন কার্যক্রম গুটিয়ে নেবে অ্যাকর্ড


জানুয়ারি ১৬, ২০২০
পোশাক কারখানায় কর্মপরিবেশ ও শ্রম নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিদর্শন ব্যবস্থায় দুর্বলতার চরম প্রকাশ ঘটে ২০১২ ও ২০১৩ সালে। ওই দুর্বলতার সুযোগ নেয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বাংলাদেশের কারখানায় তৈরি পোশাকের ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার সংস্থার সমন্বয়ে গঠন করা হয় একাধিক জোট। এর একটি হলো ইউরোপভিত্তিক জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যাকর্ড)। গতকাল প্রকাশিত বিবৃতি ও খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শর্তসাপেক্ষে এ জোটটি নিরীক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে পোশাক কারখানার মূল্যায়ন কার্যক্রম গুটিয়ে নেবে।

জানা গেছে, অ্যাকর্ডের পূর্বঘোষিত মেয়াদ শেষ হয় ২০১৮ সালের জুন মাসে। কিন্তু কারখানার সংস্কার অনগ্রসরতা গতি ও শ্রম অধিকার নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়েই মেয়াদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা ঘোষণা করে ক্রেতা জোটটি। এদিকে কারখানার মূল্যায়ন কার্যক্রম ও সংস্কারের বিষয় নিয়েই বিক্ষুব্ধ কারখানা কর্তৃপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। গত বছর মে মাসে আদালতের পক্ষ থেকে অ্যাকর্ড ২৮১ দিন সময় পায়। এরপর গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ‘আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল’ (আরএসসি) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয় অ্যাকর্ড ও বিজিএমইএর। সেপ্টেম্বর মাসের আলোচনায় সব পক্ষ ২০২০ সালের মে মাসের মধ্যে অ্যাকর্ড এবং এর সব কাজের (পরিদর্শন, প্রতিকার, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা-অভিযোগ প্রক্রিয়া) একটি সাবলীল হস্তান্তর নিশ্চিত করতে বিবিধ বিষয়ে একমত হয়। যার ধারাবাহিকতায় ১৪ জানুয়ারি অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা। একটি ট্রানজিশন চুক্তির মাধ্যমে আরএসসি গঠন ও এর ধারা অনুসরণের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয় আলোচনায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে গতকাল।

বিবৃতি অনুযায়ী, ট্রানজিশন চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে আছে কার্যকর ফলাফলের কারণে এরই মধ্যে অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে নেয়া নথিবদ্ধ সিদ্ধান্ত, নীতি ও প্রটোকল আরএসসি অব্যাহত রাখবে। অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। অ্যাকর্ডের বিদ্যমান সংশোধনমূলক পরিকল্পনা অনুযায়ী কারখানার মূল্যায়ন কর্মসূচি আরএসসির আওতায় অব্যাহত রাখা হবে। ঢাকায় অ্যাকর্ডের সব কার্যক্রম, কর্মী, অবকাঠামো আরএসসিতে স্থানান্তর করা হবে। আরএসসিতে স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও অ্যাকর্ডের রিপোর্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করে চিফ সেফটি ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেয়া হবে। অ্যাকর্ডে প্রচলিত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক অভিযোগ পদ্ধতি আরএসসিতে অনুসরণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, বাংলাদেশে কাজ বন্ধ করবে অ্যাকর্ড এবং তাদের কাজ আমাদের গঠন করা জাতীয় সহযোগী কমিটির কাছে হস্তান্তর করবে। ওই কমিটিতে থাকা ব্র্যান্ড, ইউনিয়ন ও শিল্প সমন্বিতভাবে কারখানা নজরদারি করবে। আমরা অ্যাকর্ডের সব রিসোর্স নিচ্ছি এবং তাদের সব প্রটোকল অনুসরণের পাশাপাশি জাতীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেব।

খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, আরএসসি একটি জাতীয় উদ্যোগ, যা দেশীয় শিল্প, ব্র্যান্ড ও ট্রেড ইউনিয়নকে একত্র করে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্সের মানদণ্ড নিশ্চিত করবে, যা কিনা অদ্যাবধি অর্জিত সাফল্যকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে আরএসসি শিল্প সম্পর্ক কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত বিষয়গুলোকেও নিজেদের কার্যপরিধির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করবে।