অসুস্থ হয়েও পেলেন না ছুটি, কারখানাতেই মৃত্যু

Link of the News:

কারখানায় কাজ করা অবস্থায় অসুস্থ হওয়ার পর ছুটি চেয়েও পাননি। শেষে মারাই গেলেন। নিহত শ্রমিকের নাম তারিকুল ইসলাম (৩০)। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায় ডিজাইন টেক্স পোশাক (সোয়েটার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান) কারখানায় এই ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্ত্রী সুমনা আক্তার সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। তারিকুল ইসলাম নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাগরা বাজার গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক মুন্সীর ছেলে।

নিহতের স্ত্রী সুমনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী পৌরসভার চন্নাপাড়া এলাকার রইস উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থেকে ওই কারখানায় চাকরি করতেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এখন আমার দুই সন্তানকে কে দেখবে? আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই।’

নিহত শ্রমিকের সহকর্মী জালাল উদ্দিন জানান, তারিকুল উৎপাদন ফ্লোরে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে উৎপাদন ব্যবস্থাপকের কাছে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছুটি চাইলে তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি। উপরন্তু অসুস্থ শরীর নিয়ে তাকে কাজ করতে বাধ্য করানো হয়। এ অবস্থায়  রাত তিনটায় সে হঠাৎ ফ্লোরে পড়ে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

কারখানার নিটিং জ্যাকার্ড (অটো) সেকশনের উৎপাদন ব্যবস্থাপক ইদ্রীছ আলী জানান, নিহত তারিকুল ইসলাম কারখানার নিটিং জ্যাকার্ড (অটো) সেকশনের শ্রমিক ছিল। শুক্রবার নাইট শিফটে্‌ রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তার কাজ করার কথা ছিল।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এনামুল হক জানান, নিহত শ্রমিকের লাশ কারখানার নিজস্ব খরচে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তার স্বজনদের কাছে নিহতের দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।

সহকর্মীর মৃত্যুর খবরে শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মবিরতি পালন করে। এসময় কিছু শ্রমিক উত্তেজিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে কারখানা কর্তৃপক্ষ শিল্প পুলিশের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণ করে। তবে কারখানায় শ্রমিকরা কোনও ধরনের হামলা বা ভাঙচুর করেনি।

নারী শ্রমিক শেফালী বেগম জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী দৈনিক দুই ঘণ্টা ওভারটাইমসহ ১০ঘণ্টা ডিউটি করার কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে প্রতিদিন রাত ১২টা, ৩টা ও ভোর রাত পর্যন্তও জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করে। কোনও শ্রমিক অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও চিকিৎসা দেয় না কারখানা কর্তৃপক্ষ। জরুরি প্রয়োজনে ছুটি চাইলে ছুটিও দেওয়া হয় না। অতিরিক্ত কাজ করানোর ফলে তারিকুলের মৃত্যু হয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবে না বলে কারখানার মূল ফটকে নিরাপত্তা প্রহরীদের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়।